নামঃ Md.Nur Hossain Topu

গল্পঃ সালটা তখন ২০০৮। জীবিকা নির্বাহের কারণে আমাকে যেতে হয়েছে দেশের বাহিরে। বিদেশের মাটিতে পা রাখার পর যে মানুষটাকে আমি পেছনে অনেক খুঁজেছিলাম তিনি হলেন আমার মমতাময়ী, আমার স্নেহের মা। চার ভাই বোনের সংসারে আমি ছিলাম সবার বড় আর সেজন্যই আমার আদরটাও ছিল সবচেয়ে বেশি।শৈশবকাল কেটেছে আমার গ্রামের বাড়ি কুমিল্লায় । হাফ প্যান্ট এবং গেঞ্জি পরে দুরন্তপনাময় ছোটবেলার প্রত্যেকটি দিন কাটিয়েছি আমি এই গাছ থেকে ওই গাছ ,এই বাড়ির মুরগি থেকে আরেক বাড়ির মুরগির ডিম চুরির মাধ্যমে । মাঝেমধ্যে ধরা খেলে মা খুব বকুনি দিত এবং ইচ্ছেমত মারত। কিন্তু মায়ের সাথে আমার সম্পর্ক বরাবরই ছিল খুবই মজবুত এবং দৃঢ়। আমার নামে মাকে কেউ নালিশ দিলে মা প্রথমে আমাকে জিজ্ঞেস করত যে আমি কোন অপরাধ করেছি কিনা? যদি সত্যি কথা বলতাম মা ছেড়ে দিত আর যদি মিথ্যা বলতাম এবং মা বুঝতে পারতো তাহলে ওই বেলা পেটে আর খাবার জুটত না। এভাবেই আমাকে এবং আমার সকল ভাই বোনদেরকে শাসন এবং আদরের মাধ্যমে আমাদের বড় করে তুলেছেন। হঠাৎ বাবার মৃত্যুর পর দায়িত্ব যখন আমার কাছে এসে পড়ল তখন বুঝতে পারলাম বাস্তবতা আসলে কি জিনিস? মায়ের রান্না করা প্রতিটি খাবার আমার খুবই পছন্দের ।সবচেয়ে বেশি পছন্দের গরুর মাংস ,হাঁসের মাংস আর গরম সাদা ভাত। এসব খাবার আমি খুবই মিস করি যখন আমি বিদেশের মাটিতে পা রাখি। মুখে খাবার দেওয়া মাত্রই মা ফোন দিত এবং জিজ্ঞেস করত, "বাবা , তুই কি পেট ভরে খেয়েছিস?" আমি মাকে দূর থেকে সান্ত্বনা দিতাম, "মা, তুমি একদম চিন্তা করো না ।তোমার ছেলে ভালো আছে এবং পেট ভরে খাবার খাচ্ছে। কিন্তু আসলে এখানকার খাবারের স্বাদ আর আমার মায়ের রান্না করা খাবারের স্বাদ তুলনা অযোগ্য। সেটা মাকে কিভাবে বুঝাবো?আসলেই মায়ের হাতে রান্না করা প্রতিটি খাবার এখন অমৃত কারণ "মায়ের হাতের রান্না, কখনোই হয়না তুলনা".. মহান আল্লাহ পাক আমার মাকে নেক হায়াত দান করুক। সবাই দোয়া করবেন। আমিন।

Share বিস্তারিত জানতে চোখ রাখুন