নামঃ Abdul Jobber Bappi

গল্পঃ ৩৬৫ দিনের প্রতিটি সেকেন্ডেই মনে করতে চাই ‘মা’ শব্দটিকে। নদীর তলদেশে তো যাওয়া যায় কিন্তু মায়ের ভালোবাসার গভীরতা পরিমাপ করা যায় না। পৃথিবীর সবচেয়ে বড় যোদ্ধা হলো 'মা'। আমার মায়ের সংগ্রামী স্পর্শেই আমি ধীরে ধীরে পূর্ণ মানুষ হয়ে উঠি। যখন থেকে বুঝতে শিখেছি, দেখেছি কোনো না কোনো সংগ্রামে জড়িয়ে আছে আমার 'মা'। আমাকে নিয়ে মায়ের প্রথম সংগ্রাম ১৯৯১ সালে ঘূর্ণিঝড়ের সময়, ঐ সময় মারাত্মক ডায়ারিয়া আক্রান্ত হই আমি। ঐ প্রতিকূল পরিবেশেও 'মা' এর যাদুকরী সংস্পর্শ এবং বুদ্ধিদ্বীপ্ত সিদ্ধান্তে প্রায় মৃত আমি নতুন জীবন ফিরে পেলাম। মধ্যবিত্ত পরিবারের মাসকাবারি গোনা টাকায় সংসার চালানোর মতো চিরন্তন সংগ্রামের সৈনিক ছিলেন তিনি। বাবা প্রবাসে থাকায় এবং ভালো স্টাব্লিশ না হতে পারায় দুই-তিন মাস অন্তর কিছু টাকা পাঠাতেন ঐ টাকায় ঘর ভাড়া, খাবার খরচ, আমাদের তিন ভাই- বোনের পড়ালেখা খরচ চালাতে গিয়ে সবসময় দেখতাম তিনি হিমশিম খাচ্ছেন কিন্তু তিনি আমাদের কাছেই কখনো প্রকাশ করতেন না শুধু বলতেন তোরা মন দিয়ে পড়াশুনা কর কোনো কিছু নিয়ে তোদের ভাবতে হবে না। আবার আমার এই মমতাময়ী 'মা' আমরা কোনো অন্যায় করলে হয়ে যেতো পর্বত কঠিন 'মা'। তার কাছ থেকেই এই পৃথিবীর ভালো-মন্দের পার্থক্য শিখেছি। আমার 'মা' এর দিক-নির্দেশনা এবং অনুপ্রেরণা আমার পাবলিক স্কুল, কলেজ এবং বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার পাথেয় ছিল। এমনকি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর শেষে রিক্রুটমেন্ট এক্সামের জন্য যথেষ্ট পরিশ্রম করা সত্ত্বেও পর পর ১৬ টা সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে ভাইবা দিয়েও ফাইনাল সিলেক্ট না হওয়ার দরুন প্রায় দু বছর বেকার ছিলাম। তখনও আমার মা হতাশ না হয়ে আমার উপর আস্থা রাখে এবং আমাকে উৎসাহ প্রদান করে যে লেগে থাকার জন্য। অবশেষে মায়ের অনুপ্রেরণায় ১৭ তম ভাইবায় চাকুরীতে ফাইনাল সিলেক্ট হই। এখনো 'মা' যখন শুক্র বা শনিবারে আমার চুলে তেল লাগিয়ে দেয়, ঐ সময় তাকে আমার ভিতরের সব কথা খুলে বলি কারন আমার জীবনের সম্পূর্ণতাই আমার 'মা'। আমার মায়ের কোলেই আমার সবচেয়ে নিরাপদ আশ্রয়।

Share বিস্তারিত জানতে চোখ রাখুন