নামঃ তাসনোভা শামছ সেতু
গল্পঃ আমার আম্মুর তুলনা শুধুই আম্মু।ঘরে বাহিরে যে মানুষটা সমানতালে নিজের যোগ্যতা প্রামান করার পরেও যে মানুষটা নিজের তিনটি মেয়েকেই স্বনামধন্য পাবলিক মেডিকেল ও বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করিয়েছেন।তোমারতো ছেলে নেই এ কথার দাঁত ভাঙ্গা জবাব দিয়েছেন নিজের মেয়েদের সুযোগ্যা করে গড়ে তুলে।সেনাবাহিনীর অফিসার হিসেবে কঠিন দায়িত্ব পালনের পরেও সন্তান ও চাকরির মাঝে কখনোই কোন ফাঁকির অবকাশ রাখেননি। এত কঠিন দায়িত্ব সামলানোর পরেও কোনদিন কি খেয়ে স্কুল কলেজ যাব বা এসে কি খাব ভাবিনি,সবসময় খাবারের জন্য সবকিছুই তৈরী, যাদুকর ছাড়া মনে হয় এমনটা অসম্ভব। তার মমতা মাখা কঠোরতায় পড়া ফাঁকি কখনোই দিতে পারিনি।পড়ার সময় পড়া আর খেলার সময় খেলা।একটা মানুষ এত সুন্দর করে কিভাবে সব সামলাতে পারে তা আমার জানা নেই।তার আদর্শ ও অনুপ্রেরণায় আমরা তিনবোনই শিক্ষা জীবনের সাথে সাথে চাকুরি জীবনেও সফল। যে কোন সমস্যায় একবার হলেও আমি চোখ বন্ধ করে ভাবি আম্মু কেমন করে এর সমাধান করবে,আমার মনে হয় এতেই সমাধান অর্ধেক হয়ে যায়। আম্মু কতেবার নিজের আরো বড় হবার নিজেকে আরো গড়ে তোলার সুযোগ গুলো হাসতে হাসতে বিসর্জন দিয়েছ,যা ভাবতে আমি ভয় পাই তুমি সেই কঠিন সিদ্ধান্ত নিয়ে সব করে দেখিয়েছ।আমি রাত জেগে পড়েছি বলে সারারাত হাসি মুখে জেগে থেকেছ অথচ সকালে তোমার অফিস আর হয়তো সে সময় আমি নাক ডেকে ঘুমাবো। তুমি তোমার রাত দিন এক করেছ আমার জীবনে আলো ফোটাতে আর এখনো করে যাচ্ছো আমার সন্তানকে আলোকিত করতে। শুধু বলতে চাই ভালোবাসি আম্মু তোমায়।তুমি হাজারো বছর বেচেঁ থাকো আমার চলার পথের পাথেও হয়ে।তোমার ভালোবাসার ছায়াতলে সিক্ত কর আম্মু, তুমি আছো বলেই পৃথিবীর নিশ্বাস নিয়েছিলাম।তুমি আছো বলোই হাটতে শিখেছিলাম,তুমি শিখিয়েছো ভাবতে,বাঁচতে ভালোবাসতে।বিশ্বাস করো আম্মু আমি এখনো ছোট।তুমি ছাড়া বাজারে গেলে কি কিনব বুঝি না,সবজী কিনতে এলোমেলো করি,গেস্ট আসলে কি রান্না করবো তোমার কাছে না শুনলে রান্নাও করতে পারিনা।বাবুকে আমি একা রাখলে হাফ ধরিয়ে ফেলি, বাবুর অসুখে খই হারিয়ে ফেলি,তুমি তখন আমাকে সামলে নাও সেই ছোট্ট বেলার মতো।অনেক ভালোবাসি তোমায় আম্মু।