নামঃ সীমান্ত মন্ডল
গল্পঃ আমার মা আমার সুপার হিরো। আজকে আমি একজন ইঞ্জিনিয়ার । আমার ইঞ্জিনিয়ার হওয়ার জন্য যে মানুষটার অক্লান্ত পরিশ্রম লুকিয়ে আছে তিনি আমার মা । আমার জন্য কত কষ্টই না তিনি করেছে । মনে পড়ে এক রাতের ঘটনা। তখন আমি ক্লাস থ্রি কি ফোরে পড়ি। আমার কি জ্বরটাই না হলো সে রাতে। সারাটা রাত আমি জ্বরে কাতরাচ্ছিলাম। ঘরে জ্বরের ঔষধ ছিল না। দোকান পাটও অত রাতে বন্ধ হয়ে গেছে। মা আমার মাথা ধুইয়ে দিলেন। সারাটা রাত আমার সাথে জেগে রইলেন। সারাদিন পরিশ্রমের পর যে কোন ব্যাক্তিরই ঘুমে চোখ জড়িয়ে আসার কথা। অথচ মায়ের চোখ থেকে ঘুম যে ছুটে কোথায় গেল। এমন কত রাত যে মা আমার না ঘুমিয়ে কাটিয়ে দিয়েছেন তার কি হিসেব আছে। আমি যখন কোলে ছিলাম । যে বয়সের স্মৃতি আমার একটুও মনে নেই। কতবার যে ক্ষুধায় কেদে উঠেছি। মা আমার ঠিকই বুঝে যেতেন। প্রত্যন্ত গ্রামে একদম গরীব পরিবারে জন্ম নেওয়ার পরে কখনো ভাবতে পারি নি আজকের ঢাকা শহরে আমি থাকতে পারবো । আমার মা কি করে নি আমার জন্য । নিজে কঠোর পরিশ্রম করেছে শত কঠিন পরিস্থিতিতেও আমার পড়াশোনার খরচ দিয়ে গেছে । তিনি নিজে স্বল্প শিক্ষিত কিন্তু তার একটাই স্বপ্ন ছিলো যে কোনো কিছুর বিনিময়ে আমাকে ইন্জিনিয়ার বানাবেই। তিনি গ্রামের নদীতে বাগদা চিংড়ির পোনা জাল টেনে ধরে প্রতি পিস মাত্র ৫০ পয়সা করে বিক্রি করেছেন। মানুষের বাসায় কাজ করেছেন , নিজে বাড়িতে মুরগি , ছাগল, গরু পালন করে আমার পড়ার খরচ দিয়ে গেছেন। শত কষ্টের মধ্যে থাকার পরও ফোন দিলে একটা হাসি দিয়ে বলতো আমি ভালো আছি বাবা। তোমার কোনো সমস্যা হচ্ছে নাতো । তোমার শক্তি , অনুপ্ররণতে আজকের আমি। মা আমাকে শত কঠিন মুহুর্তে আমাকে সাহস যুগিয়েছে । তিনি আমার কাছে আমার ভগোবান। তিনি আমার সুপার ম্যান।