নামঃ Kalpona Rani
গল্পঃ বাবার বাড়ি প্রতিটি মেয়ের সবচেয়ে প্রিয় আশ্রয়স্থল। কিন্তু বিয়ে হয়ে গেলে মেয়েদের শ্বশুরবাড়ি যেতেই হয়। এটাই আমাদের সমাজের প্রচলিত রীতি। বিয়ের আগে শ্বশুরবাড়ি যাওয়া নিয়ে মনের ভিতর একটা আতঙ্ক কাজ করে। শ্বশুর-শ্বাশুড়ি কেমন হবেন। আদৌ তাদের সঙ্গে মানিয়ে চলতে পারবো কিনা। শুনেছি শাশুড়ি মানেই দজ্জাল, নিত্য নতুন খোঁচা দেবার মানুষ। বউদের নাকি অনেক জ্বালায়। শাশুড়ি কখনো মায়ের মত হয় না। বিয়ের পর বুঝতে পারলাম, এই ধারণা ভুল। আমি আমার শাশুড়ির মধ্যেই যেন নিজের মাকে খুঁজে পেলাম। আমার শাশুড়ির আদর, ভালবাসা, উপদেশ, আদেশ, নিষেধ, শাসনের ধরন সবকিছুতেই যেন মাকে খুঁজে পায়। তাই বিশ্ব মা দিবস উপলক্ষে ফ্রেশ সিমেন্ট ও দ্যা ডেলি স্টারের যৌথ উদ্যোগে আয়েজিত "মা যেখানে ঘর সেখানে" র মাধ্যমে আমি আমার শাশুড়ি মায়ের সাথে কাটানো, আমার একটি পছন্দের স্মৃতি শেয়ার করবো। বিয়ের পর আমার শাশুড়ি মায়ের সাথে কাটানো সব স্মৃতিই পছন্দের। সাধারণত দিনের বেশিরভাগ সময় আমার আর আমার শাশুড়ি মায়ের রান্না ঘরেই কাটে। তাই রান্না ঘরের আমাদের অনেক মজার স্মৃতি আছে। বিয়ের পর প্রথম যেদিন রান্না ঘরে যায়, দেখি আমার শাশুড়ি রান্না করতেছে। আমি আমার শাশুড়িকে বলি মা আজকে আমি রান্না করি। ওনিও বললেন করো। ওনি সবেমাত্র নিরামিষ তরকারি বসিয়েছেন। আমাকে বললেন বউমা তুমি পরিমাণ মতো তরকারি লবন হলুদ দিও। আমি চা বানাও। ওনি চা বানানোর জন্য চায়ের কেটলি পরিস্কার করতে গেলেন। আমি এর ফাকে তরকারিতে হলুদ গুড়া দিলেও, লবণের জাগায় তরকারিতে চিনি দিয়ে ফেলি। আমার শাশুড়ি চা বানানোর জন্য যখন চিনির পাত্র খুঁজে, তখন দেখে চিনির পাত্র আমার এইদিকে। তখনই আমার শাশুড়ি বুঝতে পারে আমি লবণের পরিবর্তে চিনি দিয়েছি। এনিয়ে আমার শাশুড়ির সে কে হাসাহাসি। যেন হাসি থামতেইছেনা। কিচেনের এই মজার স্মৃতিটি মনে পড়লে আজো আমার হাসি পায়।