নামঃ আবু নাঈম তুহিন

গল্পঃ ঘটনাটি ২০১৫ সালের। সে বছর রোজা ও ঈদের সময় আম্মু অসুস্থ থাকায় হাসপাতলে ভর্তি ছিল। আম্মু অসুস্থ, শপিং করিনি, ঈদ উপলক্ষে বাসায় বিশেষ কোনো খাবারের আয়োজন হয়নি; এসব কথা ভেবে চাঁদরাতে আমার মন খুব খারাপ হয়ে যায়। পরক্ষণে ভাবলাম আম্মু অসুস্থ তাতে কি! আমি তো আছি! নিজে কিছু একটা রান্না করে ঈদের দিন আম্মুকে মিষ্টিমুখ করাব। এতে আম্মু কিছুটা হলেও খুশি ও সারপ্রাইজ হবে। কিন্তু আমি তো রান্না করতে পারিনা! তাই ইউটিউবে পায়েস রান্নার রেসিপি দেখে রান্নাঘরে গিয়ে চাল, দুধ ও বিভিন্ন উপকরণ দিয়ে তৈরি করি মজাদার পায়েস। ঈদের দিন সকালে নামাজ শেষে বক্স ভর্তি পায়েশ নিয়ে হাসপাতালে চলে গেলাম। আম্মুকে সালাম করে বললাম- "আম্মু তোমার জন্য পায়েস রান্না করে এনেছি"। একথা শুনে কান্নায় আম্মুর চোখ ভিজে গেল। আম্মু বলল- "বাবারে তুই এত কষ্ট করতে গেছিস কেন"? আমি আম্মুর মুখে এক চামচ পায়েস খাইয়ে দিলাম। এর পরেই ঘটল আসল ঘটনা। পায়েস মুখে নিয়ে আম্মু অনেকক্ষণ চুপ করে থাকে। আমি অনেকবার জিজ্ঞেস করলাম- "আম্মু পায়েস কেমন হয়েছে"? উত্তরে আম্মু ভালো বা মন্দ কিছুই বলেনা। কিছুক্ষণ পর মিটিমিটি হেসে আম্মু বলল- "বাবারে তুইতো পায়েসে চিনির বদলে হয়তো ভুলে লবণ দিয়েছিস"। এই কথা শুনে আশেপাশে থাকা নার্সরা অট্টহাসিতে ফেটে পড়ল। আমি কি বলবো কিছুই বুঝতে পারছিলাম না, লজ্জায় আমার মুখ লাল হয়ে যায়। তারপর আম্মু বলল- "থাক বাবা, বাদ দে, তুই আমার জন্য কষ্ট করে রান্না করে এনেছিস তাতেই আমি খুশি"। এরপর কেটে গেছে অনেক বছর। আম্মুর সাথে বহু ঈদ উদযাপন করেছি। তবে সেই ঈদে মনের ভুলে চিনির বদলে লবণ দিয়ে পায়েস রান্না করে আম্মুকে খাওয়ানোর ঘটনা মনে থাকবে সারা জীবন। আজও অবসরে যখন আম্মুর সাথে বসে গল্প করি তখন সেই দিনের ঘটনা মনে পড়লে দুজনই হাসিতে ফেটে পড়ি।❤️

Share বিস্তারিত জানতে চোখ রাখুন