নামঃ মহুয়া সুলতানা
গল্পঃ ছোট বেলা থেকেই মায়ের আদুরে মেয়ে ছিলাম। তবে মা ছিলেন খুব কঠিন, তার অনুমতি ছাড়া কোথাও যাওয়ার পারমিশন ছিলো না। মনে মনে চাইতাম স্বাধীনতা। ভাবতাম বাড়ি ছেড়ে কোথাও যেতে পারলে নিজের মতো করে স্বাধীন ভাবে থাকতে পারবো। যেই আমি কখনো প্লেট ধুয়েও ভাত খাইনি। সেই আমি জব পেলাম ডিফেন্স এ। ট্রেনিং এর জন্য চলে গেলাম মা কে ছেড়ে। কি যে কষ্টের ছিলো দিনগুলো। যারা ডিফেন্স এ জব করে শুধু তারাই বুঝবে এই কষ্ট। খেতে বসে দেখতাম ভাত গন্ধ হয়ে গেছে, তরকারি নষ্ট হয়ে গেছে, মুখে তুলার অযোগ্য থাকতো। তবু প্রানের দায়ে সেগুলোই গোগ্রাসে গিলতাম। আর চোখ বেয়ে পড়তো নোনা জল, চোখে ভেসে উঠতো মায়ের হাতের লোভনীয় রান্না। শুধু মনে হতো আহা যদি মায়ের হাতের গরম ভাত খেতে পারতাম। আমাদের রাতের খাবার দেওয়া হতো বিকেল ৫ টায়। সারা রাত ক্ষুধায় কাতরাতাম। মা ফোন দিলে বলতাম, মা আজকে অনেক মজার খাবার খেয়েছি। পরক্ষনে ফোন রেখে খাবারের কষ্টে কান্নায় ভেংগে পড়তাম। আর আনমনে বলে উঠতাম, মা গো তোমাকে ছাড়া যে আমি বড় অসহায়। কেউ যে আমার প্রিয় খাবার গুলো তোমার মতো যত্ন করে তুলে রাখে না মা। ট্রেনিং এর প্রচন্ড কষ্টে কেউ যে আমার পাশে থাকে না মা। ট্রেনিং এর প্রায় ৩ মাস পর আমার মা পারমিশন পেলেন আমার সাথে কিছু মুহূর্ত দেখা করার। এই দিনটি ছিলো আমার মায়ের সাথে আমার সর্বশ্রেষ্ঠ স্মৃতি। আমাকে জড়িয়ে ধরে মা অঝোরে কেদেছিলেন। সেদিন আমার মা আমার পছন্দের সব মজার খাবার রান্না করে আমার জন্য নিয়ে এসেছিলেন। আমার আজো মনে আছে মা আমার মুখে খাবার তুলে দিচ্ছেন, আর আমার মনে হচ্ছিল আমি অমৃত খাচ্ছি। বার বার মনে হচ্ছিল, এই সময়টুকু বেধে রাখি, যাতে কখনোই না ফুরোয়। আমার মা আমার জন্য কি আমি তখন ই বুঝছিলাম। আমার মা যেখানে সেখানেই আমার ঘর, আমার জীবনের সর্বসুখ। ভালো থাকুক পৃথিবীর সকল মা। আগলে রাখুক আমাদের।