নামঃ শফিকুর রহমান

গল্পঃ প্রায় এক মাস আগে থেকেই জানতে পারতেছিলাম প্রথম বারের মত মা কে ছেড়ে দূরে কোথাও যেতে হবে। যেখানে আমাকে থাকতে হবে মা এবং পরিবারের কাউকে ই ছাড়া😥 যখন শুনতেছিলাম তখন অতটা অনুভব করি নাই যতটা অনুভব করছিলাম ঘর থেকে বের হওয়া শুরু করে পরবর্তী ঘরে ফেরা পর্যন্ত😥 বলছিলাম সেই ২০০৮ সালে যখন ক্লাশ সেভেন ছিলাম তখনকার সময়ের কথা😥 সেই বয়সে মা কে ছেড়ে দূরে কোথাও গিয়ে একা থাকব বা মা র কাছ থেকে বিদায় নিব তা মনের ভিতর বিন্দুমাত্র কল্পনা ছিল না😥 যখন ই শুনতেছি আজকে ঘর থেকে বের হতেই হবে তখনই কলিজাটা ভেঙে চুরমার হয়ে যাচ্ছিল😥 বিদায়ের বেলায় মা কে জড়িয়ে ধরে চিৎকার করে কান্না করেছিলাম কারণ তখনকার যে বয়স নীরব কান্না কি সেটা আমার জানা ছিল না।মা ও মুখ লুকিয়ে কান্না করতেছিল আর তার আচঁল দিয়ে আমার আমার চোখের জল মুছে দিচ্ছিল।মা র কাছ থেকে বিদায়ের পর যতদূর যাচ্ছি ততোদূর চোখ দিয়ে শুধু পানি ই পড়তেছিল😥 পিছনে ফিরে তাকিয়ে দেখি মা আমি আড়াল না হওয়া পর্যন্ত দাঁড়িয়ে চোখের পানি ছেড়ে আমার দিকে তাকিয়ে ছিলেন। ওখান থেকেই যাত্রা শুরু.... সেই এক অচেনা এক পথ ধরে। যেখানে ছিল সেই পথের প্রতিটি সময় যন্ত্রণায় ভরা এক বিশাল জগৎ😥 কোন রকম মেনে নিতে পারতেছিলাম না😥 মা র সাথে প্রতি সাপ্তাহে বা পনেরো দিনে একবার ফোনে কথা বলতে পারতাম😥 এভাবেই করে চার মাস কাটিয়ে দিয়েছিলাম যা আমার কাছে চার কোটি মাসের চেয়েও বেশি মনে হয়তেছিল😥 সেই চার মাস পর এবার মায়ের কোলের দিকে রওনা হব। মা কে যে বলব মা আমি আসতেছি তখন সেটা বলারও সুযোগ তেমন ছিল না। কারণ তখনকার সময়ে সচরাচর এত মোবাইল ফোন ছিল না। যার কারণে মা কে বলতেও পারি নাই।যাইহোক খুশি মন নিয়ে যত সামনে আসতেছি তত মনে হচ্ছে আজকের দিনে আমার মত কেউ ই সুখী নয়। মনে হচ্ছে পুরো পৃথিবী আমিই জয় করে নিয়ে আসতেছি। ঘরে পৌছাতে ঘরের দরজা নক্ করতে মা ঘরের দরজা খুলে দিয়ে আমাকে দেখে জড়িয়ে ধরে কান্না করতেছিল।আর বলতেছিল তোকে সেই তখন বিদায় দিয়ে আমি ঘরে ঢুকতে পারতেছিলাম না😥 তখন আমি সেই শান্তির নীড় পেয়ে কান্না কি জিনিস সেটা ভুলে গিয়েছিলাম। সেই বারো বছর বয়স থেকেই মা কে ছাড়া একা থাকতে শিখেছিলাম।যা কখনো কল্পনা ও করি নাই 😥😥 সেই বয়সে একা থাকতে গিয়ে শৈশবের অনেককিছু থেকেই বঞ্চিত হয়েছিলাম😥 এভাবেই শুরু হয়েছিল আমার জীবনের গল্প।।

Share বিস্তারিত জানতে চোখ রাখুন