নামঃ সুমাইয়া শিকদার বৃষ্টি
গল্পঃ মা ! এই একটা শব্দ আমাদের জীবনে জীবনের সমান। আমাদের জীবনে মা একটা এমন জায়গা যা আমরা ঠিক সুস্পষ্ট ভাবে ব্যাখ্যায় করতে পারিনা। মা আমাদের সেই গাছ তলা যেখানে জীবনের কঠোর তপ্ত রোদের মধ্যে একফালি ছায়া যেখানে আমরা চলার পথে কিছুটা বিশ্রাম পাই। মা আমাদের বাড়ির সেই কোনটা যেখানে আমরা আর সবকিছু ভুল হলে গিয়ে বসে নিঃস্বাস নি। আমাদের জীবনে আমাদের মা ই একমাত্র মানুষ যে এক্কেবারে ভেতর থেকে বোঝে, মায়েদের কিছু বলে দিতে হয়না আমাদের, আমাদের মুখ দেখলেই কেমন করে যেন আমাদের মনের অবস্থা বুঝে ফেলে। আর ঠিক সময়মত সঠিক সমাধান চলে আসে হাতের কাছে।এমন কোনো মনুভূতি নেই নেই আমাদের মায়েরা আমাদের জীবন সম্পর্কে জানেনা বা তার জন্য আমাদের সঠিক সমাধান বলে দিতে পারে। একদিনের এর্টটি একটা মেয়ে ৯ মাস তার সন্তান কে জঠরে লালন করে এক দিনের মধ্যেই হয়ে ওঠে মা যার ভাবনা ভালোবাসা তার সন্তান ও আর বাকি পৃথিবীর সমস্ত সনাতনের প্রতি এক ই থাকে। জীবনে যে মানুষের কাছে তার মায়ের স্নেহ থাকে সে সেই স্নেহ ভালোবাসার জোরে সারা পৃথিবী জয় করতে পারে। এমন কোনো পরিস্থিতি জীবনে থাকেনা এমন কোনো অসুবিধে আমাদের জীবনে থাকেনা যা আমাদের মা ঠিক করে দিতে পারেনা। ছোটবেলায় মা একবার খুবই অসুস্থ ছিল, মাকে হসপিটালে তিন দিন কাটাতে হয়েছে তখন আমি খুবই ছোট মাকে ছাড়া রাতে ঘুম হয় না। এত ছোট আমাকে আর আপুকে ফুপির বাসায় রেখে মাকে হসপিটালে ভর্তি করা হলো দিনের বেলাটা বেশ হেসে খেলে কাটিয়ে ফেলতাম কিন্তু যেই সন্ধ্যে নেমে আসত তখন যেন আর সময় কাটতোই না মনটা কেমন জানি মা মা করত। তখন আমার ফুফাতো ভাই তার বইগুলো বের করে দিল আমাকে দেখার জন্য সেখানে দেখি 'মেঘনা' নামের একটি গল্পে একটি মেয়ে তার মাকে জড়িয়ে শুয়ে আছে সেটা দেখে তো আমি আর আমার কান্না আটকে রাখতে পারি না। এভাবেই দুটি দিন যাওয়ার পর মা যখন একটু সুস্থ হলো তখন বাসায় না গিয়ে সরাসরি ফুপির বাসায় চলে এলো আমাদের নিয়ে একসাথে বাড়ি ফিরবে বলে মাকে দেখে আমি তো দৌড়ে মাকে জড়িয়ে ধরে কান্না শুরু করলাম। মা বলতে লাগলো বাবা এইতো আমি চলো বাসায় যাব। সেদিন যেন মাকে দেখে মনে হচ্ছিল নতুন করে প্রাণ ফিরে পেলাম।