নামঃ সানজিদা ইভা

গল্পঃ মাকে নিয়ে সবটা লিখতে গেলে একটা পুরো উপন্যাসও কম পড়বে। ছোটবেলার প্রথম খেলার সাথী চরিত্র হতে মা আমার পুরোদস্তুর বন্ধু,আমার সকল গোপনীয়তার গল্পসাক্ষী, আমার মেয়ের গার্ডিয়ান এনজেল আরও অনেককিছু্। যিনি তার আজন্ম, নিঃস্বার্থ ভালোবাসা দিয়ে আমার পুরো পৃথিবী ঘিরে আছে,সেই মাকে আজ বলছি, " মা, তোমায় অনেককককক ভালোবাসি।ধন্যবাদ সবকিছুর জন্য,মা।" পৃথিবীর সব থেকে কঠিন কাজ হচ্ছে সন্তান মানুষ করা। যোগ্যতার সাথে সন্তান মানুষ করা। কিভাবে জানেন? জন্ম দেয়ার পর থেকে ৬মাস নিজের ঘুম হারাম। একটু পরপর খাবার দাও। পটি ক্লিন করো। বমি পরিষ্কার করো। ন্যাপি চেঞ্জ করো। ঘুম পারাও। এতো কিছুর পর নিজের জন্য মনে হয়না কোনো সময় আর বাকি থাকেনা। এরপর হাঁটা শুরু করলে তো কথা-ই নাই। সারাক্ষণ পিছে পিছে দৌড়। ৩বছর হলেই স্কুল এ দৌড়।সেই দৌড় শেষ হয় ১৬ বছর বয়সে। ১৬ বছরে স্কুল শেষ হয়ে দৌড় শেষ হলেও চিন্তার দৌড় শেষ হয় না। কলেজ - ভার্সিটি তে পড়ার সময় ঠিক মতো গেল কিনা খেলো কিনা কার সাথে গেল কতো চিন্তা। এগুলো করতে করতে সন্তান যখন যোগ্য ততোদিনে মা ৫০-৫৫ এর ঘরে পা ফেলেছে। মাথায় একটু একটু পাকা চুল। চোখের নিচে ভাজ। সন্তানের খোঁজ নিতে নিতে নিজেই নিখোঁজ। মায়েদের ছুটি নেই। হলিডে নেই। বেতন বোনাস নেই তাও কিভাবে বছরের পর বছর সন্তানের জন্য দোয়া করেই যাচ্ছে জানি না। আমরাতো বছরে একদিন মা দিবস পালন করি কিন্তু মায়েদের জন্য ৩৬৫দিনই সন্তান দিবস। মায়ের সাথে কাটানো সবচেয়ে প্রিয় এই মূহুর্তটা,যখন কনভোকেশনে আমি আমার গ্র্যাজুয়েট টুপি মাকে পড়াই।আমার এই অর্জন যেনো মার মাথার মুকুট।কারণ, "সন্তানের এক একটি অর্জনে যেনো মা'ই জিতে যায়।" আজ আমি যেই পর্যায়ে তার সবটুকু কৃতিত্বই মার নিরলস প্রচেষ্টা আর জায়নামাজে করা মায়ের অশ্রুসজল চোখে দোয়ার ফলাফল। যেই সন্তানের জন্য তিনি ক্যারিয়ার, গ্র্যাজুয়েশন সবকিছু ত্যাগ করেছিলেন,তার এই সাফল্যের সত্যিকার গ্র্যাজুয়েট তো আমার মা,আমার জান্নাত ।বিয়ের পর তো স্বামীর বাড়িতে থাকছি। আমার তো কোনো নিজস্ব বাড়ি নেই, তাই আমার মা যেখানে থাকে,সেটাই আমার বাড়ি, দুনিয়াতে আমার এক টুকরো জান্নাত। মহান সৃষ্টিকর্তা আমার মাকে সুস্থতা ও নেকহায়াত দান করুন আর হাজার বছর এমনিভাবে মায়ের দোয়ার আঁচলতলে থাকার তৌফিক দান করুন।আমিন। পৃথিবীর সকল মা'রা ভালো থাকুন।

Share বিস্তারিত জানতে চোখ রাখুন