নামঃ মোঃ জাহিদ হোসেন

গল্পঃ পৃথিবীতে মা শব্দটা মায়া-মমতা ও স্নেহ ঘেরা স্বর্গীয় ভালোবাসা। মায়ের ভালোবাসা পরিমাপ করা মত যন্ত্র এ পৃথিবীতে নেই। মায়ের ভালোবাসা লোক দেখানোর জন্য নয় এ ভালোবাসায় নেই কোন কৃত্রিমতা। আমার মা ছিলেন আমার রোল মডেল। অনেক বেশি বয়স পর্যন্ত আমি আমার মায়ের বুকের মধ্যে ঘুমাতাম। আমাদের সংসারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি ছিলেন আমার বাবা। নানা সমস্যার মধ্য দিয়ে আমার বাবা মা আমাকে কোলে পিঠে করে বড় করে তুলেছিলেন। মায়ের বকুনি আমি তেমন গায়েই মাখতাম না, বরং যারা আমার নামে নালিশ করত তাদের ওপর রেগে যেতাম। কিন্তু কিছুই আর বলতাম না। কারণ মায়ের কানে আবার নালিশ এলে মা খুব কষ্ট পাবেন তাই। একটু বড় হয়ে আমি বদলে গেলাম। সেনসেটিভ, একরোখা এবং অভিমানী। বড় পরিবারের ছোট্ট ছেলের প্রতি অনুশাসন ছিল অনেক। একটা অনিশ্চয়তার ঘোরটোপ মাকে সারাক্ষণ ঘিরে থাকত। আমার শৈশব ভীতিটাও তৈরি হয়েছিল সেখান থেকেই। আমি সব বুঝতে পারতাম। আমি চেষ্টা করতাম মাকে কষ্ট না দিতে। বায়না ধরা থেকে বিরত থাকতাম অনেক সময়। তারপরও মাকে কত কষ্ট দিয়েছি। কত কিছুর জন্য বায়না ধরেছি। আমি কিম্ভূত ছিলাম বলেই আমাকে নিয়ে মায়ের উৎকণ্ঠা বেশি ছিল। ওই বয়সে রাত জেগে বইপড়া, স্কুল পালিয়ে সিনেমা দেখা, ম্যাগাজিন কেনা, একা একা ঘোরা, উদাসীনতা এসব মা লক্ষ্য করতেন। মায়ের প্রাতিষ্ঠানিক কিছু শিক্ষা ছিল বটে কিন্তু মায়ের দূরদর্শিতা ছিল অসাধারণ। সন্তানদের জন্য তিনি অনেক কষ্ট সহ্য করেছেন। কিন্তু মা কখনো তার কষ্টের কথা বলতেন না। বুঝতেও দিতেন না। নিজের ভাগের খাবারটা পর্যন্ত আমাকে খাওয়াতেন।শৈশব-কৈশোরের সেই দুরন্ত সময়গুলোতে ‘মা আবার আমাকে ডাকবে- মাথায় পিঠে হাত বুলিয়ে ঘুম পাড়িয়ে দিবে।’ ছোটবেলায় ‘জ্বর হলে মা আমার মাথায় জলপট্টি দিতে দিতে রাত পার করে দিতেন আর ভোরবেলা জ্বর ছেড়ে গেলে কপালে চুমু খেয়ে বলতেন আমার ছোট্ট সোনা পাখির ছানা তুমি ভালো হয়ে গেছো বাবা! আমি তখন ভাত-রুটি খেতে চাইতাম না। কিন্তু মায়ের মুখের পান খেতে খুব ভালো লাগত কী যে মজা পান-সুপারি-জর্দা-চুনের মিশেলে মজার এক অমৃৎ স্বাদ যেন পেতাম সেই পানে। আমি চাই এভাবেই আমার পাশে থাকো সব সময় তুমি, আমার সবচেয়ে বড় শক্তি হয়ে। তোমাকে ভালোবাসি, মা। অনেক ভালোবাসি।

Share বিস্তারিত জানতে চোখ রাখুন