নামঃ রাহিমা আক্তার রাহিমা

গল্পঃ মা, কেমন আছ? জীবনে প্রথমবারের মতো তোমাকে লিখছি। আমার হৃদয়ের অলিগলিতে অসংখ্য অব্যক্ত অক্ষরগুলো প্রতীক্ষার প্রহর গুনছে তোমার কাছে পৌঁছাবে বলে। কতগুলো বছর পার হয়ে গেল তোমাকে স্পর্শ করি না। তোমার শরীরের মায়াবী সেই ঘ্রাণ পাই না। তোমার আদরমাখা কণ্ঠে ভালোবাসার শব্দ শুনি না! আমার সব আছে, শুধু তোমার স্নেহটুকু নেই। আমার এই অতি উন্নত প্রযুক্তির দেশে, এখন আর কেউ প্রতিদিন আমাকে খাইয়ে দেয় না। অথচ তোমার হাতে না খেলে আমার পেট ভরত না। কত বছর তোমার হাতের রান্না খাই না! আমার প্রিয় খাবারগুলো এখন আর কেউ যত্ন করে তুলে রাখে না। অসুখ হলে এখন আর কেউ মাথার কাছে রাত জেগে বসে থাকে না। তোমাকে ঘিরে সব ভালোবাসারা হারিয়েছে স্মৃতির মণিকোঠায়। আমার নির্ঘুম রাত্রিগুলো কাটে অসহ্য যন্ত্রণায় ক্ষতবিক্ষত হতে হতে! কষ্টে ভেজা বালিশটা নীরবে দীর্ঘশ্বাস ফেলে! মা কী, মাতৃত্ব কী আমি বুঝেছিলাম সেদিন, যেদিন আমি প্রথম উপলব্ধি করতে পেরেছিলাম আমার অভ্যন্তরে ছোট্ট এক সত্তার উপস্থিতি। আমার সেই নয় মাসের যাত্রাপথে আমি একটু একটু করে তোমাকে আবিষ্কার করেছি। কত কষ্ট আর ত্যাগের মধ্য দিয়ে একজন মা সন্তানকে বড় করেন, তার সবটুকুই বুঝতে শিখেছি যেদিন প্রথম নিজেও মা হয়েছি। এখন আমি ঠিক তোমার মতো করে আমার সন্তানদের আগলে রাখি। রাতের পর রাত জাগি। মা, তুমিহীনা আমি আমার বিবর্ণ পৃথিবীতে ভীষণ ক্লান্ত! কত বছর তোমার কোলে মাথা রেখে ঘুমাই না! কত দিন প্রাণখুলে হাসি না, কত দিন চিৎকার করে কাঁদি না! তোমার মতো করে কেউ যে আমায় বোঝে না মা! আমার অভিমানগুলোকে সবাই অভিমান ভাবে। কিন্তু অভিমানের আড়ালে ভালোবাসাটা কেউ বোঝে না। আমার চোখের ভাষা কেবল তুমিই পড়তে পারতে। আমি প্রতিদিনের প্রার্থনায় বিধাতার কাছে কেবল একটা কথাই বলি। আমার সবটুকু আয়ু দিয়ে তিনি যেন তোমায় ভালো রাখেন। বিধাতার দেওয়া শ্রেষ্ঠ উপহার তুমি। অনেক ভালো থেকো। আমার জন্য শুধু এটুকু দোয়া করো, জীবনযুদ্ধে যেন আমি জয়ী হতে পারি। সব বাধা অতিক্রম করার মনোবল যেন আমার থাকে।

Share বিস্তারিত জানতে চোখ রাখুন