নামঃ আনিকা রাইশা হৃদি

গল্পঃ সকাল সাতটা বাজে বাসা থেকে বেরিয়েছি। পদার্থবিজ্ঞান প্রাইভেট পড়ে কলেজে গেলাম। অতঃপর ক্লাস, পরীক্ষা সব মিলিয়ে একটা বিশ। অন্যদিন ছুটি হয় বারোটায় । কলেজ থেকে বের হবো তখন আবার হলরুমে একটা সম্মেলনে প্রিন্সিপাল স্যারের বক্তব্য শুনতে বলা হলো। তখন বাজে একটা পয়তাল্লিশ। ২ টা থেকে রসায়ন প্রাইভেট আবার ৩ টায় উচ্চতর গণিত। যেহেতু বারোটায় ছুটি হয় তাই এর মাঝে সবসময় বাসায় যাওয়া হয়। সেদিন যেতে পারিনি। সোজা কলেজ থেকে উচ্চতর গণিত প্রাইভেট পড়তে চলে গিয়েছি। উচ্চতর গণিত প্রাইভেট চলাকালে ধরণী কাঁপিয়ে প্রবল বর্ষণ শুরু হলো। আমিও মনের সুখে ভিজে ভিজে বাসায় ফিরলাম। বাসায় ফিরতে ফিরতে সাড়ে চারটা। গেট থেকে আম্মু বলে ডাক দিতেই আম্মু দৌঁড়ে এসে আমাকে দেখে কেঁদে দিলেন। আমি ভিষণ অবাক হলাম। বারবার জিজ্ঞেস করছি আরে কাঁদো কেন! কিছুক্ষণ কেঁদে আমায় ইচ্ছে মতো বকলেন। আমি বাসায় ফিরতে দেরি হবে জানাইনি বলে আম্মু চিন্তায় অস্থির! দুপুরের খাবারও খাননি তিনি। অতঃপর কতক্ষণ বকে কেঁদে আমাকে ভাত খাইয়ে দিলেন। আমার প্রিয় নাস্তাগুলো বানিয়ে দিলেন। বাড়িতে ফিরে গেট থেকে আম্মু বলে যখন ডাক দেই আর আম্মু এসে গেট খুলে দেন। আমার কি যে শান্তি লাগে! বারান্দায় বসে বৃষ্টির সময় আম্মুর সাথে কফি খাওয়া, গল্প করা। রান্নাঘরে গরুর গোশত রান্না হলে বাটি নিয়ে কষিয়ে রাখা গোশত খাওয়ার জন্য আম্মুর সাথে দাঁড়িয়ে থাকা। সত্যি বলতে আমার মা যেখানে সেখানেই আমি আমার নীড় খুঁজে পাই। আমার ঘর আমার মা। বাড়ির প্রতিটি ঘরে আমার মায়ের ঘ্রাণ। সেদিন আমার নিজেরই খারাপ লাগছিলো। এতটা অস্থির হয়ে যাবে আম্মু ভাবিনি। আমারই বাসায় জানানো উচিত ছিলো। আমার যে বাসায় একজন অপেক্ষায় থাকে! আমার আম্মু। আমার দুনিয়া। আমার ঘর, আমার ভালোবাসা।

Share বিস্তারিত জানতে চোখ রাখুন