নামঃ Afroza Ahmed

গল্পঃ একটি মাত্র শব্দ মা কিন্তু ক্ষমতা যেন হাজারো শব্দের বেশি । মা শব্দটির মধ্যে যেন জাদু লুকিয়ে থাকে । মা সকলের জীবনে যেন গুরুত্বপূর্ণ একটি মানুষ । এমনকি বাবার সাথে পরিচয় ও মায়ের মাধ্যমে হয়ে থাকে। জীবনের সমস্ত দুঃখ কষ্ট মোচন এর সবচেয়ে বড় আশ্রয় হলো মায়ের আঁচল। কিন্তু পৃথিবীতে বেশিরভাগ মানুষই তাদের দৈনন্দিন ব্যস্ততার কাজে মায়ের ভালোবাসা যেন গুরুত্তই দিয়ে উঠতে পারে না । এমনই একদিন ঘটনা ঘটেছিল আমার সাথেও , আমিও মায়ের ভালোবাসা ও কষ্টকে বুঝেই উঠতে পারিনি । একদিন আমার কোচিং এ টেস্ট পরীক্ষা চলছিল । পরীক্ষা দিতে দিতে বেজে গেল রাত 9 টা। বাইরে বের হয়ে দেখলাম আমার মা আমার জন্য অপেক্ষা করছে। বাড়ির সকল কাজ সম্পন্ন করে মায়ের চেহারা ছিল বেশ গভীর ও ক্লান্ত। যাইহোক আমরা দুজনেই বাড়ি ফেরার উদ্দেশ্যে রওনা দিলাম। মা ও আমি দুজনেই হাঁটছি কিন্তু কোন রিক্সা খুঁজে পাচ্ছিলাম না। এমন সময় হাঁটতে হাঁটতে আমরা একটি ব্যস্ত সড়কে চলে এলাম। যা ছিল অনেক ধরনের যানবাহন দিয়ে পরিপূর্ণ একটি জ্যাম রাস্তা। যে সড়কে ছিল ট্রাক , ট্যাক্সি , বেবী টেক্সি , সাইকেল , বাইক এবং প্রাইভেট কার । তাই জেমে মাঝে ঢুকে মা আর আমি বিপদে পড়েছিলাম। বেরও হতে পারছিলাম না কারণ সড়কটি ছিল বিভিন্ন ধরনের যানবাহনে পরিপূর্ণ । এমন সময় একজন সাইকেল চালক সতর্কহীনভাবে সাইকেল চালাচ্ছিল। দক্ষতা না থাকার কারণে তিনি জ্যামের মাঝেই ওনার সাইকেলটি চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছিল। এমন সময় সাইকেলের চাকাটি আমার পায়ে লাগতেই মা আমাকে পিছন দিয়ে ধাক্কা দিল। কাজেই ধাক্কা দেওয়াতে পিছন দিকে ফিরে মাকে রেগে গিয়ে জিজ্ঞেস করলাম ধাক্কা দিলে কেন। অথচ মা পায়ে ব্যথা পেয়েছে কিনা তা জিজ্ঞেস করলামই না । আমার মা মায়া চোখে আমার দিকে তাকিয়ে বলল , পিছনে ধাক্কা না দিলে তুমি ব্যথা পেতে যে মা । এখন আমি আর কিছু না ভেবে মাকে নিয়ে বাসায় যাওয়ার চিন্তা করছি । সামনে গিয়ে সড়কের একটি মনোরম পরিবেশ দেখে মায়ের সাথে ছবি তোলার আবদার করলাম । মা প্রথমে না করলেও দ্বিতীয় বাড় আমি অনুরোধ করার জন্য মা ছবি তুলতে রাজি হলেন। সবশেষে আমি ও আমার মা বাসায় গেলাম । বাসায় গিয়ে হাত মুখ ধুয়ে ফ্রেশ হয়ে গেলাম। কিছুক্ষণ পর, আমার জুতো জোড়া উঠাতে গিয়ে দেখি মায়ের জুতো জোড়াও পড়ে আছে। এমন মুহূর্তে , মায়ের জুতা উঠাতে গিয়ে নজরে পরলো মায়ের সাথে জুতোতে রক্তের মতো লাল রঙের দাগ। তাই কিছু না ভেবে মায়ের কাছে জুতো জোড়া দেখাতে গিয়ে হঠাৎ করে মায়ের পায়ের দিকে চোখ পড়ল আমার। দেখলাম মায়ের পায়ের বুড়ো আঙ্গুলে নখ ভেঙে গিয়েছে এবং চামড়া উঠে যেয়ে রক্ত বেরোচ্ছে । মা আমাকে বুঝতে না দিয়ে তাড়াতাড়ি ঘুরে দাঁড়ালেন । আমি পরক্ষণেই জিজ্ঞেস করলাম , মা তুমি পায়ে আঘাত পেয়েছো কিভাবে? প্রথমবার মা আমাকে কোন জবাব না দিলেও, দ্বিতীয়বার আমি যখন রেগে গিয়ে জিজ্ঞেস করলাম আবার তখন মা বলে উঠলো, তোকে চাপাতে গিয়ে তখন সাইকেলের থেকে আমি আমার পায়ে সামান্য আঘাত পেয়ে যাই। মা আমাকে বলল এত মাথা খাটাশনে এটা কিছুক্ষণেই ঠিক হয়ে যাবে। আমি এসব কিছু সহ্য করতে না পেরে মায়ের অসীম ভালোবাসা বুঝতে পেরে মাকে জড়িয়ে ধরে কাঁদলাম। মাকে রান্নাঘর থেকে নিয়ে এসে মায়ের পায়ের খত সারাতে মায়ের পায়ের রক্ত মুছে দিলাম। মা আমার ভালবাসা দেখে উনার প্রতি , আমাকে আবার জড়িয়ে ধরে কাঁদলেন। সেই জড়িয়ে ধরার অনুভূতি যেন কখনোই বলে শেষ করতে পারবো না। মা যে সন্তানের জন্য কি তা কখনো একটি সন্তান পরিপূর্ণভাবে বুঝে উঠতে পারবে না যতক্ষণ পর্যন্ত সেও একজন অভিভাবক না হয়ে ওঠে । তাইতো পৃথিবীর সর্বদিকে ও পৃথিবী সর্ব কেতাবে মায়ের এত সম্মান , মায়ের এতো শ্রদ্ধা। তাই আমার কাম্য পৃথিবীতে সকল মা যেন সুস্থভাবে সন্তানের সঠিক ভালোবাসা পেয়ে বেঁচে থাকতে পারে পৃথিবীতে। সকলকে ছেড়ে থাকা যায় কিন্তু মাকে একমাত্র ছেড়ে কখনই থাকতে পারিনা আমরা । সকল ধরনের গ্লানি যেন মুছে যায় মায়ের স্পর্শে। জীবনে কঠিন মুহূর্তে সকলে ছেড়ে চলে গেলেও একমাত্র মা যিনি কখনো সন্তানকে ছেড়ে যান না । তাইতো পৃথিবীতে মা শব্দটি এত বিরল। মায়ের ভালোবাসা এমন একটি বিষয় যা কখনো লিখে কিংবা বলে শেষ করা যাবে না ।পৃথিবীতে ভালো থাকুক সকলের মা এই যেন হয় আমাদের সকলের কাম্য ও দোয়া।

Share বিস্তারিত জানতে চোখ রাখুন