নামঃ সাবরিনা মনসুর
গল্পঃ ছোট্টবেলা থেকে খুব ভালো রেজাল্ট করা আমি, কোনো পরীক্ষাকেই ভয় পেতাম না। কারণ আমার মা সবসময়ই বলতো আমার মেয়ে সব পারবে। আমার চাকুরীজীবি মা হয়তো অন্য মায়েদের মতো আমার জন্য রাত জেগে বসে থাকতেন না বরং অফিস আর ঘরের কাজে ব্যস্ততার মাঝে আমাদের সময় দিতেন। এ নিয়ে আমাদের ভাই বোনদের কোনো আফসোসও নেই। তবে মায়ের উপস্থিতি, মায়ের শরীরের গন্ধই যেন টনিকের মতো কাজ করতো। স্কুল-কলেজ থেকে বাড়ি ফিরে প্রথম কথাই থাকতো মা কোথায়? যেদিন মায়ের অফিস থেকে ফিরতে দেরি হতো শুরু হতো আমাদের যত বায়না। সারাদিনের যত কার্যকলাপ মাকে না বললে যেন শান্তি হতো না। অসুখ না হলেও মিথ্যে অসুখের বাহানায় মাকে বলতে পারতাম, আজ আমার শরীর ভালো নেই, খাইয়ে দাও তো। কিংবা মন খারাপ হলেই বলতে পারতাম, "মা আজ তোমার সাথে শুই? তুমি বুকে জড়িয়ে ধরে ঘুম পাড়াও তো।" মায়ের অনুপ্রেরণায় মায়ের মেয়ে ডাক্তার হবার স্বপ্ন নিয়ে পাড়ি জমিয়েছি ঢাকায়। ঢাকা মেডিকেল কলেজের মিলন হলের ৮২ নাম্বার রুমটিকে মনের মতো সাজিয়েছি। তারপরও এটিকে ঘর বলে মনে হয়না! কেনো? এ ঘরে যে আমার মায়ের গন্ধ নেই। মাঝে মাঝে ফেসবুকে মায়ের সাথে কথা হয়। মা জিজ্ঞেস করে, কেমন আছিস মা? শরীর মন ভালো তো? মাকে হেসে মিথ্যে বলি। মাকে কেমনে বুঝাই? যে শহরে আমার মা নেই, সে শহরে আমার মন ভালো থাকেনা!!!