নামঃ Nusrat Jahan Promi

গল্পঃ মা’ এক বিশাল সর্বজনীন নাম, ধরনীর সবচেয়ে মধুরতম শব্দ! ছোট্ট একটি শব্দ হলেও একটি জীবন সৃষ্টির জন্য তার অবদান অতুলনীয়। এই মায়ের ভালবাসাকে কখনো মুল্য দিয়ে খন্ডন করা যায় না। মায়ের ভালোবাসাকে শুধু মুল্য কেন এই বিশ্বে এমন কিছুই নেই যার সাথে তুলনার মাপকাঠিতে নির্ণয় করা সম্ভব। মা-হলেন সন্তানের একমাত্র মমতার সুশীতল স্নিগ্ধ ছায়া। যে মানুষটি তার জীবনকে বিসর্জন দিয়ে আমাদের আগলে রেখে লালন পালন করেছেন, আমাদের বড় করে তুলেছেন, আমাদের নিয়ে সবসময় স্বপ্ন দেখেছেন, শুভ কামনা করেছেন তিনি হলেন মা। ময়মনসিংহে জন্ম নিয়ে বড় হয়েছি পুটিয়া, বরিশাল, বীরগঞ্জ, পঞ্চগর, সিরাজগঞ্জ, নিলফামারী, চট্টগ্রাম ও সবশেষে ঢাকা। বাবা ছিলেন পুলিশ কর্মকর্তা। যার কারণে ঘুরে ফিরে বড় হতে হয়েছে দেশের বিভিন্ন স্থানে। বড় হয়ে উঠা এই জীবনের প্রতিটি মুহুর্তে মায়ের নিরাপদ আশ্রয়ের কোনো অভাব পাইনি কখনো। আমার সেই মায়ার মা আজ আমাদের থেকে অনেক দুরে চলে গেছেন। ফিরে না আসার দেশে চলে গেছেন। সেখান থেকে আর কখনো তিনি ফিরে আসবেন না। তাঁর স্নেহের শীতল-স্নিগ্ধ মমতা দিয়ে শাড়ির আঁচলে আর কখনো মুখমমণ্ডল মুছে দিবেন না। জীবন চলার পথে সকল ক্লান্তি, সমস্যা আর চিন্তার সবকিছুই মায়ের স্নেহ ভরা স্পর্শে একদিন যে সুখ ও শান্তি ফিরে পেতাম আজ আমি তা থেকে বঞ্চিত। মা হলেন পরিবারের একটি শক্ত স্তম্ব, একটি কেন্দ্র, একটি সমাধান, একটি সংসারের চাবিকাঠি। মাকে আমরা যতই দুঃখ দেই না কেন তবু তিনি কোলে টেনে নেন তার স্নেহময়ী মায়ার আবরণে। মার ভালবাসা পবিত্র, চিরন্তন, ও শাশ্বত। মাকে হারিয়েছি ২১ আগস্ট ২০১৪। দেখতে দেখতে একটি বছর পার হয়ে যাচ্ছে। অথচ এখনো আমার কাছে মনে হয় আমার মায়ার মা আমার কাছেই আছেন, আমার পাশেই আছেন। স্বশরীরে না হলেও তিনি আছেন আমার ছায়াসঙ্গী হয়ে। এখনো কথা বলেন টেলিফোনে। কিরে কবে আসবি বাড়িতে? মা কি কখনো আবার হারিয়ে যায়? এইতো সেদিন স্বপ্নে এসে আমাকে দেখা দিয়ে বললেন, আমার খুব কষ্ট ওর রে, পেটো বিশ করের। অর্থাৎ আমার খুব কষ্ট হচ্ছে। পেটে বেথা করছে। ঘুম ভেঙ্গে গেলো। আল্লাহর কাছে দওয়া করে বললাম, হে আল্লাহ তুমি আমার মাকে শান্তি দেও, ক্ষমা করে দেও। মা আছেন, মা থাকবেন। মায়ের কথা, মায়ের উপদেশ, মায়ের নির্দেশ সন্তানের চলার পথের পাথেও। মায়ের মমতা আজ ছায়ার মত আমার জীবনের সাথে মিশে আছে। মায়ের ঋণ কখনো শোধ করা যায় না। মায়ের নির্দেশ অমান্য করে এমন সাহস কি কারো আছে? নিশ্চই না। তবুও স্বার্থের টানে অনেকে করে বসে ভুল। মায়ের বলে যাওয়া নির্দেশ পালনে করে অমান্নতা। আর এই ভুলের মাশুল নিজের অজান্তেই দিতে হয় জীবনের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত। ভোগ করতে হয় চরম শাস্তি। ইতিহাস বলে, ধ্বংশ হয়ে গেছে অনেক সংসার জীবন শুধুমাত্র মায়ের মনে দু:ক্ষ দেওয়ার কারণে। যাদের হৃদয়, মাতৃহৃদয় কিংবা মায়ের ভালবাসা বলতে কিছুই নেই তারাই করে বসেন এমন ভুল। জীবিত মায়ের চেয়ে ফিরে না আসা জগতের মা আরো অনেক শক্তিশালী। তিনি আজ কাছে না থাকলেও দূর থেকে নিশ্চই সবকিছুই পরিলক্ষিত করছেন। কোথায় বলে বিশ্বাসে আনে ধন তোর্কে বহুদূর। সুতরাং মায়ের নির্দেশ অমান্য করে এমন সাধ্য কার! আমরা পাচ ভাই তিন বোন। একই মায়ের গর্ভে আটটি সন্তান। আমাদের এই বিশাল সংসারকে আগলে ধরে রেখেছিলেন মা। ষাট দশকের কথা। সকালে মা নাশতা খেতে দিতেন। কোনদিন মুড়ি মুড়কি, কোনদিন আটার রুটি সাথে নালী গুর আর চা। এতগুলো ভাই বোনকে সামলে রাখা চাট্টিখানি কথা নয়। আমাদের মধ্যে অন্যদের চেয়ে মা একটু বেশিই আদর করতেন মেঝো ভাইকে। দুষ্ট থাকার কারণে বাবা তাকে একটু বেশি মারধর করতেন। এই কারণেই হয়তো সব ভাইবোন মিলে খাওয়ার সময় মা আদর করে মেঝো ভাইয়ের প্লেটে একটু বেশি দিতেন। এনিয়ে আমরা কখনো কোনো কথা না বললেও মনে মনে খারাপ লাগতো। বিকেল বেলা বাসায় ফিরে এসে রাতের খাবারটা আগে থেকেই মা রেধে রাখতেন। ছোটবেলা আমাদের সকলেরই দিন কাটতো পায়ে হেঁটে, দৌড়াদৌড়ি, খেলাধুলা আর পড়াশোনা করে। একটি বাই সাইকেল পর্যন্ত কিনে দেওয়ার আর্থিক ক্ষমতা ছিল না আমার বাবার। কারণ তিনি ছিলেন অত্যন্ত সৎ পুলিশ কর্মকর্তা। অন্যদিকে মায়ের আন্তরিকতা ও স্নেহ মমতায় আমাদের কখনো কোনো কিছুরই অভাব অনুভূত হয়নি। আমার সেই মায়ার মা বেঁচে ছিলেন ৮৪ বছর। ভালোবাসা আর দয়ার এক স্বর্গীয় প্রতিচ্ছবি ছিলেন আমার মা। প্রার্থনা করি আল্লাহ বেহেশত নসিব করুক।ওপারে ভালো থেকো মা।

Share বিস্তারিত জানতে চোখ রাখুন