নামঃ Md Imran Hossain
গল্পঃ "পড়া লেখা করে যে, গাড়ি ঘোড়ায় চড়ে সে।" ছাতার নিচে একটি ছড়ার বই নিয়ে বসে থাকতাম আমি, আর আমার পাশেই মা তীব্র রোদের নিচে বসে এই কবিতাটি বলতেন আর ইট ভাঙতেন। আমিও মাঝে মাঝে কবিতা বলে শোনাতাম , "টুইংকলে টুইংকলে লিটল ষ্টার, হামটি ডামটি স্যাট অন এ ওয়াল।" ঘাম মাখা হাত নিয়ে সে এগিয়ে আসতো, আলতো করে আমার কপালে চুমু দিয়ে বলতো, "'আমার ছেলে একদিন অনেক বড় মানুষ হবে'।" আমার জীবনের সবচেয়ে বড় অনুপ্রেরণা এই একটি বাক্য। এটাই আমার পরিচয়, আমার লক্ষ্য। - তোমার বাবা মা কি করে? কোথায় তারা? - “আমার মা ইটের ভাটায় কাজ করে। আমি ভাল মার্কস পেয়েছি স্যার” ,হাস্যোজ্জ্বল ছলছল চোখ আর উদ্দীপনাময় মুখ নিয়ে বলেছিলাম আমি। - "আমি তোমার বাস্তবতা বুজতে পেরেছি, তবে এই স্কুল তোমার জন্য নয়।" "পড়া লেখা করে যে গাড়ি ঘোড়ায় চড়ে সে।" আস্তে করে তাকে ধন্যবাদ দিয়ে আমি বাইরে বেড়িয়ে এসে স্কুল এর বাউন্ডারি দেয়ালে হেলান দিয়ে দাঁড়িয়ে পায়ের আঙুলগুলো মাটিতে ঘষছি আর এই দুই লাইন কবিতা পড়ছিলাম । সেদিন ভর্তি হতে না পেরে আমি যখন কাদঁতেছিলাম, তখন মায়ের একটি কথা মনে পড়েছিলো। সে ইট ভাঙতেছিলো আর বলছিল, "এই যে আমি ইট ভাঙ্গি , এইটা নতুন অট্টালিকার গইড়া ওঠার প্রস্তুতি। সব ভাঙ্গা মানে শ্যাষ না, হয়তো ভাঙ্গা হইতাছে বড় কিছুর শুরুর জন্য।" একবার আমার বাত জ্বর হয়েছিল। মা তৎক্ষণাৎ জমানো টাকা বের করলো, আমাকে ডাক্তার এর কাছে নিয়ে যাবে বলে। আমি যেতে চাচ্ছিলাম না। তাও কান ধরে হিচড়ে নিয়ে গেলো। ডাক্তার এর কাছে আমাকে নিয়ে কত অভিযোগ। আমি ঠিক মতো ঘুমাই না, ঠিক মতো খাই না। খাবো কিভাবে, যখন ভাবি যে আমার মা রক্ত পানি করে এই চাল কিনে। এই ভাত আমার গলা হতে যায় না, কান্না আসে। ডাক্তার ঔষধ দিলো। ৩৬৫০ টাকার। তার কিছুদিন দিন পরই আমি খেয়াল করে দেখলাম, মায়ের পায়ের একটি আঙুলে কাপড় বাধা। জিজ্ঞেস করায় বলে হোঁচট খেয়েছি। খুলে দেখি, আমার মা এর আঙুলটি ভেঙে গিয়েছে। আর সেই ভাঙা আঙুলে কাপড় পেঁচিয়ে সে কাজে গিয়েছে। মায়েরা এমনই হয়। সেজন্যই রাসুল (সা.)বলেছেন, ‘জান্নাত মায়ের পদতলে।’ আমি এখন ১৯। একচোখে আমার মায়ের রক্তঝড়া কষ্টের স্মৃতি, আরেক চোখে নিজের দেখা কিছু স্বপ্ন। এই দুই জিনিস চোখে নিয়ে ছুটে চলছি অবিরাম, ক্লান্তহীন ভাবে। কখনো বা মায়ের স্বপ্ন দেখা "আমার ছেলে একদিন অনেক বড় মানুষ হবে" বাস্তবায়নে, কখনো বা মা কে একটি কষ্ট ও শ্রমবিহীন ঠাঁই ও সতেজ সজীব উপভোগময় জীবন উপহার দিতে। আর এই পথচলায়ই দূরে বসে মনে করে যাচ্ছি তার বলা অমিয় সে সব বাক্য। দুঃখিত, প্রথম লেখায় বানান ভুল হওয়ায় দ্বিতীয়বার সাবমিট করলাম।