নামঃ Umme Salma
গল্পঃ আমার মা'কে আমরা চার ভাই-বোন,মা এবং আম্মা এই দু'টা ডাকেই ডাকি, কখনো আম্মা কখনো মা। আমাদের পরিবারে আমার মায়ের গুরুত্ব অনেক বেশি, আমাদের পরিবারের মূল চালিকাশক্তি ও প্রেরণার উৎস আমার মা। আমরা ছোট বেলায় দেখতাম আম্মা খুব রাগী মানুষ, আমরা আম্মা'কে ভয় পেতাম। এখন বুঝতে পারি, আসলে আব্বা এত বেশি আদর আর কোন কিছুতেই আব্বা আমাদেরকে শাসন করা, বা বকা দিতেন না। অতএব ছেলেমেয়ে মানুষ করতে হলে একজনকে তো শাসন করতেই হবে, তাই আম্মাকে রাগী মনে হতো,আম্মা ছিলো হিসাবি মানুষ, আম্মা হিসাব করে চলতো বলেই আমরা চার ভাই- বোন পড়ালেখা করে মানুষ হতে পেরেছি। আম্মা সব সময়ই সংসারের জন্য কিছু না কিছু ইনকাম করতো। যেমন আম্মা Y W C সাথে জড়িত ছিলো ওদের ওখান থেকে সেলাইয়ের কাজ এনে বাসায় করতো।এলাকায় হস্ত শিল্পের দোকান ছিলো,সেখান থেকে কাজ নিয়ে এসে, কিছু মেয়েকে দিয়ে কাজ করাতো, টুকটাক সব সময়ই কিছু না কিছু করতো,আম্মার হাতের কাজ ছিলো অসাধারণ, আম্মা তার সাধ্যমতো কনট্রিবিউট করতো সংসারে। আমরা ছোট বেলায় দেখেছি, আম্মা পাবলিক হেল্থের, টি এন্ড টি তে চাকরির জন্য চেষ্টা করতে,চাকুরীর জন্য কতবার পরীক্ষা দিচ্ছে। আম্মার যখন বিয়ে হয়,তখন আম্মা যখন অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী, আম্মা যখন মেট্রিক পাশ করে, আমি তখন অলরেডি পৃথিবীতে। আম্মা এত সুন্দর হাতের কাজ করতো বলার মতো না,আমরা ছোট বেলায় দেখতাম, আমাদের বসার ঘরে আম্মার কাজ করা টিয়া পাখি, গোলাপ ফুল, জবা ফুল কাচের ফ্রেমে বাঁধানো। আম্মা হাতে ধরে আমাদের বোনদের এসব কাজ শিখিয়েছেন।আম্মা বলতেন জীবনে যখন যে কাজ পারো শিখে নিও,কোন একদিন এই কাজগুলো কাজেও লাগতে পারে। আমাদের লেখাপড়ার দিকে আম্মার ছিল সজাগ দৃস্টি।পরীক্ষার সময় আম্মা অনেক সকালে ভাই বোনদের জাগিয়ে দিতেন পড়ার জন্য।নিজেও নিদ্রাহীন হয়ে বসে থাকতেন আমাদের পাশে।আম্মার অক্লান্ত পরিশ্রমে আমরা চার ভাই বোন আজ স্বশিক্ষায় শিক্ষিত।বিশেষ করে আম্মা তার মেয়েদের প্রতি ছিলেন কঠোর।আম্মার তীব্র অমতের পরেও আব্বা যখন ইন্টারমিডিয়েট পাশের পর বিয়ে দিয়ে দিয়েছিলেন,সেই আম্মার সার্পোটের জন্য বিয়ে,সন্তানের পরেও গ্রাজুয়েশন কমপ্লিট করতে পেরেছি। তিনি বলতেন-কখনও বরের আয়ের দিকে তাকিয়ে থেকো না,নিজে কিছু করার চেস্টা করবে। বিয়ের পর ঘর পরিবর্তন হলেও আম্মার সে কঠোরতা বজায় ছিলো।সংসার সামলিয়ে চাকুরী করা সম্ভব ছিলো না,কিন্তু আম্মা বললেন ঘরে বসে কিছু কর,তোমার রান্নার হাত তো অনেক ভালো।আম্মার অনুপ্রেরণায় আজ আমি একজন সফল উদ্যোক্তা। জীবনে চলার পথে সবসময় পাশে পেয়েছি আম্মার অনুপ্রেরণা।মা মনে গেঁথে দিয়েছিল স্বনির্ভর হওয়ার মজবুত ভিত্তি।এভাবেই মা কে পাশে পেতে চাই আজীবন। ভালো থাকুক পৃথিবীর সব আম্মারা❤️❤️❤️